অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সীতাকুন্ড। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ পাহাড়। আর এই পাহাড় গুলোর মধ্যে অন্যতম চন্দ্রনাথ পাহাড়।
যা অবস্থিত চট্টগ্রাম এর সীতাকুন্ড বাজার থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পূর্বে। তীর্থ স্থান হিসেবে পরিচিত হল ও এটি ভ্রমণ রশিকদের জন্য বিশেষ এক আকর্ষণ।
সকাল ৬টার মধ্যে আমরা পৌছে গেলাম সীতা কুন্ডে। স্থানীয় একটা হোটেলে সকালের নাস্তা করে আমরা রওনা হলাম সীতাকুন্ড বাজার থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্ব দূরে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। খুব সকালেই আমরা চলে আসলাম চন্দ্রনাথ পাহারের কাছে, আর আমাদের চন্দ্রনাথ অভিযান শুরু হচ্ছে এখান থেকেই। আপনি যদি পাহার ট্রেকিং এ নতুন হয়ে থাকেন তাহলে এখান থেকে এই বাঁশ নিয়ে নিবেন। এই বাঁশ দিয়ে আপনি খুব সহজেই পাহাড়ে উঠতে পারবেন। আর বৃষ্টির দিন হলে তো কোন কথাই নাই অবশ্যই সাথে বাঁশ রাখবেন। কারন বৃষ্টির সময় পথ পিচ্ছিল হয়ে উপরে উঠা ঝুকি পূূর্ন হয়ে ওঠে।
সবাই এক সাথে রওনা হচ্ছি চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। অল্প একটু পথ এগিয়ে আসলেই আপনার চোখে পরবে মুত্যৃঞ্জয়ী মিত্র ভাকর্যটি।
পাহারে উঠার পথে আরো দেখাবেন সীতা, স্বয়ংভনাথ, অর্ণপূণা, বিষনু ও বিরূপাক্ষ মন্দির।
আর কিছু দূর এগিয়ে আসতেই দুই টা পথ রয়েছে, ডান দিকে গেলে উপরে আরো একটি মন্দির। আপনারা বা দিকের পথ ধরে যাবেন।
পাহাড়ে উঠার সময় দু জায়াগায় দোকান পাবেন। আর কোথাও কোন দোকান নাই, তবে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপরে দোকান পাবেন। চাইলে এ সব দোকান থেকে কিছু কিনে নিয়ে যেতে পারেন।
পাহাড়ের উপরে যে মন্দির টা দেখতে পাচ্ছেন ওটাই হচ্ছে চন্দ্রনাথ মন্দির, আজকে আমাদের গন্তব্য ঐ চন্দ্রনাথ মন্দির।
আরো কিছু দূর উঠলেই ঝরনা। আর এখান থেকেই পথ বিভক্ত হয়েগেছে দুই ভাগে। ডান দিকের পুরোটা পথই সিড়ি আর বাম দিকে পাহাড়ী পথ। আর এই পাহাড়ী পথ দিয়ে উঠা অনেক সহজ। কিন্তু বর্ষকালে পিচ্ছিল থাকায় উঠতে হবে সাবধানে। এখানে বাচ্চা বা বয়স্ক লোকদের সাথে নিয়ে আসবেন না। এখানে প্রতিটা পথই খাড়া আর ঝুকি পূন্য।
পাহাড়ী পথ বেয়ে উপরে উঠলেই বিরূপাক্ষ মন্দির। এখানে পুজা হয় প্রতিদিনই। প্রায় ৪০ মিনিট টেকিং এর পর দেখা মিলবে এই রিূপাক্ষ মন্দির। প্রতি বছর এই মন্দিরে শিবরাত্রি তথা শিবচতুর্দশী তিথীতে বিশেষ পূূজা হয়। এই পূজকে কেন্দ্র করে সীতাকুন্ডে বিশাল মেলা হয়। সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর ফ্লাগুন মাসে বড় ধরনের একটি মেলার আয়োজন করে থাকেন। যা শিবচতুর্দশী মেলা নামে পরিচিত। এই মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য সাধু এবং নারী -পুরুষ যোগদান করেন।
বিরূপাক্ষ মন্দির থেকে প্রায় আধা মাইল গেলেই চন্দ্রনাথ পাহাড়। এখানেই অবস্থান চন্দ্রনাথ মন্দির এর। অবশেষে আমরা পৌছে গেলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায়।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠতে সময় লাগে ৫০ মিনিট, যেহেতু আমরা নতুন ট্রেকার আমাদের সময় লেগেছে ১ ঘন্টা ১০ মিনিট।
চন্দ্রনাথ মন্দিরের পাশে দাড়িয়ে দেখা যাবে দূরের বঙ্গবো সাগর আর পাহাড়ের গায়ে আলো ছায়ার খেলা। যা কিনা দূর করে দিবে সব ক্লান্তি।সমুদ্র পৃষ্ঠি থেকে প্রায় ১৩০০ ফুট উচ্চতায় এসে দূরে সমুদ্র দেখে আর দিগন্তজুুড়া পাহাড়ের সারি দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ।
চন্দ্রনাথ পাহাড় প্রায়ই লুকিয়ে পরে মেঘের আড়ালে। সৌভাগ্যবান হলে ধরা দিতে পারে মেঘ ছুয়ে দেখার দুলভ সুযোগটা ও ।
প্রায় ৪০ মিনিট চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থান করে এখন আমরা সবাই নেমে যাচ্ছি।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠা যেমন কষ্ট নামাতে গেলে আরো বেশি কষ্ট। নামার জন্য রয়েছে সরূ সিড়ি পথ।
চন্দ্রনাথ থেকে নামাতে নামতে আপনাদের কে কয়েকটি বিষয়ে ধারনা দিয়ে রাখি।
১। পাহারে উঠার সময় বাশেঁর কঞ্চি নিয়ে উঠবেন, ২০ টাকা করে নিবে, বাশেঁর কঞ্চি ফেরত দিরে ১০ টাকা ফেরত দিয়ে দিবে।
২। ভারি কোন ব্যাগ বা জিনিস পত্র নিয়ে পাহাড়ে উঠবেন না।
৩। অনেকটা পথ উপরে উঠার পর পুরোটা শরীর কাপতে শুরু করবে। তাই ধীরে ধীরে উঠুন। তারা হুড়া করবেন না। বর্ষা কিংবা বৃষ্টির পর এই পাহাড়ে না উঠাই ভাল।
৪। বাচ্চ কিংবা বয়স্ক লোকদের সাথে নিয়ে আসবেন না।
সব মিলিয়ে এডভেঞ্চার একটা ট্যুর দিতে চাইলে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে চন্দ্রনাথ পাহাড়।
আজকে এ পর্যন্তই। ফিরে আসব অন্য আরো একটি বল্গ নিয়ে। সবাই ভাল থাকবেন।
