গোয়লদী শাহী মসজিদ

ইতিহাস এমন একটা টপিক যে টপিকের প্রতি যেকোনো সময়ে যে কোনো বয়সের মানুষ আকৃষ্ট হয়ে পড়তে পারেনইতিহাসের প্রতি টান আমার ছোটকাল থেকেইবিশেষ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলোর প্রতিছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ধান পাওয়া যায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনযে ঐতিহাস নিদর্শন গুলো প্রতিনিধিত্ব করে বাংলার হারানো ইতিহাসেরইতিহাসের প্রতি টান থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম ইতিহাসের সন্ধানে

হঠাৎ একদিন বন্ধু ফয়সাল বলে উঠলো, “চল সোনারগাঁও থেকে ঘুরে আসি, সেখানে ৫০০ বছরের পুরাতন একটি মসজিদ আছে সেটা দেখে আসিপ্রথমত ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলো এক অন্যরকম টান থাকার দরুন এমন লোভনীয় একটি প্রস্তাব প্রত্যাখান করার কোনো প্রশ্নই উঠে না দ্বিতীয়ত সোনারগাঁয়ের দূরত্ব আমার বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরঅথচ বাড়ির নিকটে এতো প্রাচীন একটা স্থাপনা আছে জানতামই না

ফয়সালকে বললাম চল তাহলে কালকেই সেখান থেকে বেড়িয়ে আসা যাকফয়সাল বললো, “তুই সকাল ৬ টায় রেডি থাকিসআমি তোকে তোর বাসা থেকে এসে নিয়ে যাবোএই বলে ফয়সালের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সেদিনের মতো বাড়িতে চলে এলামআসার পর থেকেই ভিতরে কেমন যেনো একটা অস্থিরতা কাজ করছিলোসে রাতে আর বেশি দেরি না করে রাতের খাবার খেয়ে ঝটপট ঘুমিয়ে পড়লাম

ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এতটা স্বপ্ন দেখলাম! অচেনা এক জায়গায় চলে এসেছি যেখানে পরিচিত কেউ নেইআশেপাশের লোকজনের বেশ ভূষাও কেমন যেনো অদ্ভুত ধরণেরসবাই ঘোড়া নিয়ে চলাচল করছেমনে হচ্ছে কয়েকশো বছরের পুরনো এক নগরীতে এসে পড়েছিহঠাৎ দেখলাম অপরিচিত এক লোক ঘোড়া ছুটিয়ে আমার দিকেই এগিয়ে আসছেআমার কাছে এসে ঘোড়া থেকে নেমে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো এমন সময় ফয়সালের ডাকে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো!

ফয়সাল, “বললো কিরে সেই কতোক্ষণ ধরে কল দিচ্ছি রিসিভ করছিস না কেনো”? মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলাম সত্যিই তো অনেক গুলো কল! একরাশ বিরক্ত নিয়ে বললাম, “আরেকটু পরে আসতে পারলি না? ঐ লোকটা এখনি তো আমাকে গোপন কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলোফয়সাল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “কোন লোক? কী গোপন কথা”? আমি বললাম, “কিছু না তুই বোস আমি ফ্রেশ হয়ে আসি

ফ্রেশ হয়ে জামা কাপড় পড়ে ফয়সালের সাথে বেড়িয়ে পড়লামফয়সাল ওর মামার বাইকটা নিয়ে এসেছেআজকে ভ্রমণটা তাহলে মজাই হবে! ফয়সাল আমার বাল্য কালের বন্ধুএকই সাথে আমরা স্কুল, কলেজ পড়েছিএখন দুজনে একই ভার্সিটিতে পড়ছিদুজনের ডিপার্টমেন্ট আলাদা হলেও ইতিহাসের প্রতি দুজনেই রয়েছে অগাধ ভালো লাগাআর সেই ভালো লাগা থেকেই দুই বন্ধু ইতিহাসের বিভিন্ন নিদর্শনের সন্ধানে দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াই

ফয়সালের পেছনে বাইকে চড়ে বসলামছোট খাটো ভ্রমণ গুলোতে ফয়সাল ওর মামার বাইকটা নিয়ে নেয়এতে করে সময় এবং টাকা দুটোই বাঁচেবাইকে করে মদনপুর হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে আমরা দুই বন্ধু এগিয়ে চলেছিভ্রমণে বের হওয়া স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারিএক পরিবেশ থেকে যখন আরেক পরিবেশে ভ্রমণ করি তখন নতুন পরিবেশ মনের মধ্যে অন্য রকম এক অনুভুতির সৃষ্টি করেইট পাথরের শহর ছেড়ে যখন আমরা সবুজ প্রান্তরে যাই তখন সেই সবুজ আমাদের চোখের আরাম যোগায়চারপাশের সবুজ গাছপালা দেখে চোখের আরাম নিতে নিতে আমরা কখন যে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা চলে এসেছি খেয়ালই ছিলো নাচৌরাস্তা থেকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য মিনিট দশেকের দূরত্ব

এই মোগরাপাড়া এলাকাটার নাম করণ নিয়ে রয়েছে সুন্দর একটি ইতিহাসমুগরাপাড়ার অদূরেই মেঘনা নদীর অবস্থানএক সময়ে এই মেঘনা নদীতে ছিলো মগ জলদস্যুদের ব্যাপক প্রভাবআর সেই মগ দস্যুদের নাম থেকেই মূলত এলাকাটির নাম হয়েছে মুগরাপাড়ামুগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে হাতের বামপাশের রাস্তা ধরে আমরা এগিয়ে চলেছিকিছুদূর যাওয়ার পরেই ফয়সাল পথ হারিয়ে ফেলেআসলে এই এলাকায় এর আগে আমরা কেউই আসি নি

যদিও এই সোনারগাঁও এলাকাটি খুব ঐতিহাসিককারণে এখানেই রয়েছে ইতিহাস বিখ্যাত পানাম নগরআরো রয়েছে বাংলাদেশ লোকজ ও কারুশিল্প যাদুঘর হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁও যাদুঘরসেখানে যাবো অন্য কোনোদিনআজকে আমাদের মূল গন্তব্য গোয়ালদী গ্রামের ৫০০ বছরের পুরাতন মসজিদবাইক থামিয়ে ফয়সাল এক প্রবীণ লোক কে পথ জিজ্ঞেস করলোউনি খুব সহজ ভাবেই আমাদের যাওয়ার উপায় বলে দিলেন

আমরা যাচ্ছি সোনারগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালদী গ্রামেসেই গ্রামেই রয়েছে ৫০০ বছরের পুরাতন প্রাচীন সেই মসজিদটিগোয়ালদী গ্রামে আসতেই দূর থেকে নজরে পড়লো ১ গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন ইটের তৈরি একটি স্থাপনাএটিই যে গোয়ালদী শাহী মসজিদ সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাইমসজিদটার কাছে আসতেই এর অসাধারণ কারুকাজ এবং নান্দনিক স্থাপনা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। 

আমাদের কাছে যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি ইন্টেরেস্টিং লেগেছে সেটি হলো এর সামনের দিকটার দেয়ালে রয়েছে পোড়ামাটির কাজ যা আমরা টেরাকোটা হিসেবে জানিমসজিদটির চারপাশ লোহার বেষ্টনি দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছেগেট দিয়ে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে রয়েছে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি সাইনবোর্ড। 

যেখানে লেখা এই স্থাপনাটির কোনো প্রকারের ক্ষতি সাধন আইনত দন্ডনীয়ডান পাশে রয়েছে বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় মসজিদটির বিবরণ সম্বলিত একটি সাইনবোর্ডতাতে লেখা আছে মোল্লা হিজবার আকবর খান ১৫১৯ সালে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন১৫১৯ সালে নির্মিত হলে এখন চলছে ২০২১ সাল প্রায় ৫০২ বছরের পুরাতন একটা স্থাপনার সামনে আমরা দাড়িয়ে আছি ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে ওঠছে

মোগল আমলের বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক ঈসা খাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁওএখানে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁ ও মুসা খাঁ এবং পূর্ববর্তী স্বাধীন সুলতানেরা রাজত্ব করতেনতাদের রাজত্বকালে তারা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মনোরম ইমারত, মসজিদ, খানকা ও সমাধি নির্মাণ হয়তাদের প্রতিটি মসজিদ, খানকা ও সমাধিতে মুসলিম ঐতিহ্যগত আরবীয় অলঙ্করণ পরিলক্ষিত হয়এসব প্রাচীন কীর্তির প্রতিটি মসজিদ, খানকা ও সমাধি ছোট-বড় প্রস্তর খণ্ড দিয়ে সুসজ্জিত

সোনারগাঁও বর্তমানে বিক্ষিপ্ত কতগুলো গ্রামের সমষ্টি মাত্রপানাম, আমিনপুর, গোয়ালদী, মোগরা পাড়া, দমদমা, ভাগলপুর, শাহ চিল্লাহপুর, মহজমপুর এসব গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুরা কীর্তিগুলোর ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম, নব্য বিকাশিকা, সম্রাট আকবরের প্রিয় নগরী জান্নাতুল বিলাদ অথবা হজরত জাল্লাল সোনারগাঁওয়ের সেই গৌরবোজ্জ্বল ও রোমাঞ্চকর ইতিহাসের কথাই সগৌরবে ঘোষণা করছে

এসব গ্রামের অন্যতম হলো এই গোয়ালদী গ্রামএ গ্রামে সে সময়ের গৌরবময় দিনের যেসব নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম গোয়ালদী গ্রামের ৫০০ বছরের পুরানো এই শাহী মসজিদটি

সোনারগাঁওয়ের দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য প্রাচীনকীর্তি এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের এক অনুপম নিদর্শনইতিহাস ও উপাখ্যানে সোনারগাঁওকে দেখা হয়েছে পরীর রানী হিসেবে। 

ইতিহাসে পূর্ব বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওকে হোসেন শাহী আমলে পরিচয় করে দেয়া হয়েছে স্বর্ণযুগ হিসেবেকারণ এ সময়ের আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন এক অনন্য সাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন সুলতানস্থাপত্যের প্রতি ছিল তার প্রগাঢ় অনুরাগতিনি নির্মাণ করে গেছেন অসংখ্য মনোমুগ্ধকর মসজিদ ও মাদরাসাতার বিস্তৃত রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যেসব মসজিদ নির্মিত হয়, তার মধ্যে এই ঐতিহাসিক গোয়ালদী মসজিদটি অন্যতম। তিনি তার প্রতিনিধি মোল্লা হিজবার আকবর খাঁন কে দিয়ে এই মসজিদটি নির্মাণ করিয়েছেন। 

মসজিদের ভেতর ও বাইরের দেয়ালে পাথর এবং ইটের ওপর আরব্য অলংকরণ লক্ষণীয়দেয়ালগুলোর প্রশস্ততা ১ দশমিক ৬১ মিটারচার কোণায় সুলতানি রীতিতে তৈরি চারটি খিলান-স্তম্ভ রয়েছেপ্রাচীন ভারতের পান্ডুয়া, গৌড় ও বাংলাদেশের অন্যান্য ঐতিহাসিক ইমারতের মতো গোয়ালদী মসজিদের বাইরে ও ভেতরের দেয়ালে ইট পাথরের উপর আরব্য অলংকরণ দেখতে পাওয়া যায়

মসজিদের ছাদে একটি গম্বুজ ও চার কোনায় সুলতানি রীতিতে তৈরি চারটি টাওয়ার রয়েছেমসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশের ৪টি খিলান পথ রয়েছেআর প্রধান প্রবেশপথের সোজাসোজি কালো পাথরের তৈরি কেন্দ্রীয় মেহরাব অবস্থিত৩ টি মেহরাবের বাকি ২ টি মেহরাব ইটের তৈরি

মসজিদের পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে (এখন ইট দিয়ে ভরাট করা) একটি করে খিলানাকৃতির প্রবেশপথ রয়েছেএকমাত্র গম্বুজটির ভিত্তি চারকোণের চারটি স্কুইঞ্চ খিলানের উপরছাদের ভার রক্ষার জন্য মসজিদটির ভেতরে কালো পাথরের অলংকৃত স্তম্ভও রয়েছেপূর্ব দিকের তিনটি প্রবেশপথ বরাবর পশ্চিম দেয়ালে অলংকরণে সমৃদ্ধ তিনটি মিহরাব রয়েছে। 

কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অপেক্ষাকৃত প্রশস্ততর এবং কালো পাথরে খোদাইকৃত ফুলেল ও আরব্য নকশায় সৌন্দর্যমন্ডিত পার্শ্ববর্তী মিহরাব দুইটি পোড়ামাটির ফুলেল ও জ্যামিতিক নকশায় শোভিত। মসজিদের পেছন দিকটায় রয়েছে কয়েকটি শিমুল গাছগাছ গুলোতে ফুল ফুটে আছে

একদিকে ইতিহাস আরেক দিকে প্রকৃতিদুইয়ের সংমিশ্রণে আমাদের আজকের ভ্রমণ যাত্রাটা পূর্ণতা পেলোএই মসজিদের পাশের রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধউনাকে থামিয়ে এই মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেই উনি বললেন উনি এই মসজিদটা উনার ছোটকাল থেকেই দেখছেনউনার বাবাও নাকি তার ছোটকাল থেকেই এই মসজিদটা দেখে আসছেনতিনি আরো বললেন এটা নাকি গায়েবি একটা মসজিদউনি উনার পূর্ব পূরুষদের মুখ থেকে শুনেছেন এই মসজিদটি নাকি হঠাৎ করেই একদিন মাটি খুঁড়ে বেড়িয়ে এসেছেন

উনার এই আজগুবি কিচ্ছা আমরা দুজনেই মনোযোগ দিয়ে শুনছিলামএই মসজিদটি দেখতে দেশ বিদেশ থেকে নাকি প্রায়ই অনেক পর্যটক আসেএই কথাটা উনি সত্য বলেছেনএমন ঐতিহাসিক একটু স্থাপনা দেখতে দেশি বিদেশি পর্যটক আসাটাই স্বাভাবিকতবে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে তা হলো এতো ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন অথচ এর ভালো কোনো সংস্কার নেইএই স্থাপনাটি সংস্কার করা গেলে হয়তো আরো বেশি পর্যটক আসতো

সকাল ৬টায় বাসা থেকে রওনা দিয়েছিলাম৯টা বাজতে চললোকড়া রোদ উঠতে শুরু করেছেএদিকে খিদায় দুজোনের পেট চো চো করছেএতো ঐতিহাসিক একটি স্থাপনা ছেড়ে যেতেও ইচ্ছা করছিলো নাকিন্তু কিছু করার নেই যেতে হবেফয়সাল বললো সে শুনেছে এখান বৈদ্ব্যের বাজার বলে একটা জায়গায় নাকি খুব মজাদার নাশতা পাওয়া যায় সেখান থেকে নাশতা খাওয়াবেখাওয়ার লোভ সামলাতে পাড়লাম না! তবে এই সোনারগাঁও তে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন আছে সেগুলো নিয়ে হয়তো অন্য কোনোদিন লেখা হবেআজকের মতো এখানেই বিদায়অনেক খুদা লেগেছে!

লেখক: Rafiq The Explorer


কিভাবে যাবেন
যারা এই ঐতিহাসিক গোয়ালদী শাহী মসজিদ দেখতে আসতে চান তারা ঢাকা স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে দোয়েল অথবা স্বদেশ পরিবহণে সোজা মুগরাপাড়া চৌরাস্তায় চলে আসবেনভাড়া নিবে জনপ্রতি ৪০ টাকামোগড়াপাড়া চোরাস্তায় নেমে একটা অটো রিক্সায় নিয়ে সহজেই চলে আসতে পারবেন গোয়ালদী শাহী মসজিদেতবে আসার সময় একটু সময় নিয়ে আসবেনকারণ পাশেই রয়েছে পানাম নগর এবং সোনারগাঁও যাদুঘরঐতিহাসিক এই দুটি স্থানে ঘুরতে একটু সময় তো লাগবেই